আপনি কল্পনা করুন: একজন অপরিচিত মানুষের সাথে ব্যবসা করছেন, যাকে আপনি কখনো দেখেননি, সে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকে, তোমাদের পরিবারের কেউ পরিচিত নয়, আইডি কার্ডও দেখা হয়নি।

আপনি কি সহজেই কয়েক লক্ষ টাকা তার হাতে তুলে দিতে পারবেন?

পুরনো পদ্ধতির লেনদেনে প্রতারণার ভয় দেখানো হয়েছে বাম দিকে, যেখানে একজন মহিলা ডিজিটাল ঝুঁকির মুখোমুখি হয়ে উদ্বিগ্ন, উপরে লেখা ‘OLD WAY: FEAR OF FRAUD’। ডান দিকে ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজ হ্যান্ডশেক লেনদেন, উপরে ‘NEW WAY: TRUST THROUGH TECHNOLOGY’। মাঝখানে লাল ‘RISK’ সতর্কতা চিহ্ন প্রযুক্তির শক্তিতে বাধাপ্রাপ্ত।

আগে এটা অসম্ভব ছিল, কারণ প্রতারিত হওয়ার ভয়।

এখন অনেকেই এটা করে ফেলছেন, কেন? কারণ ব্লকচেইন নামক একটা জিনিস এসেছে, যা অপরিচিতদের মধ্যে বিশ্বাসের একটা অসাধারণ ব্যবস্থা তৈরি করেছে।

অনেকে ব্লকচেইন শুনলেই মাথা ঘুরে যায়, মনে হয় এটা কোনো জটিল, রহস্যময় বিষয়।

সত্যি বলতে, এতে কোনো রহস্য নেই—এটা মূলত একটা বিশাল লেজার বই, যা পুরো বিশ্বের লোকেরা একসাথে লিখে, কেউই পরিবর্তন করতে পারে না।

আজ আমি, একজন ওয়েব৩ বিশেষজ্ঞ হিসেবে, এটাকে সবচেয়ে সহজ ভাষায় ভেঙে বলব, যাতে আপনি নিজের কথায় অন্যকে বুঝিয়ে দিতে পারেন: “ব্লকচেইন? ওটা তো একটা অত্যাধুনিক, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লেজার সিস্টেম, যা প্রতারণা প্রতিরোধ করে!” আমাদের মতো বাংলাদেশীদের জন্য এটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা প্রায়ই আন্তর্জাতিক লেনদেনে বিশ্বাসের অভাবে কষ্ট পাই।

গ্রামের লেজারের ক্লাসিক গল্প দিয়ে শুরু করি

কল্পনা করুন একটা ছোট গ্রাম, যেখানে সবাই চাষবাস করে, সবজি বিক্রি করে, টাকা ধার দেয়—সবকিছু লেজারের উপর নির্ভরশীল।

প্রথমদিকে, গ্রামে একজন সৎ বৃদ্ধকে অ্যাকাউন্ট্যান্ট বানানো হয়, সব লেনদেন তার একটা বইয়ে লিখত।

ধার দেওয়া, ফেরত নেওয়া, গরু কেনা—সবকিছু তার মাধ্যমে হতো।

এটাই সেন্ট্রালাইজড সিস্টেম—সব বিশ্বাস একজনের উপর।

কিন্তু সময়ের সাথে সমস্যা দেখা দিল:

বৃদ্ধ তার ছেলের জন্য অতিরিক্ত টাকা লিখে রাখল,

সে অসুস্থ হলে বই হারিয়ে গেল, গ্রামের লোকেরা হতাশ,

সবচেয়ে খারাপ, একদিন নতুন ফোন কিনতে গিয়ে সে দুই পাতা ছিঁড়ে ফেলল, বলল ইঁদুর কেটেছে...

সবাই রেগে গেল, কিন্তু কোনো উপায় ছিল না।

তারপর গ্রামের চালাক লোকেরা একটা চতুর উপায় ভাবল:

“একজনকে দিয়ে না লিখিয়ে, প্রত্যেক বাড়িতে একই বই দাও। লেনদেন হলে সবাইকে জানাও, সবাই নিজের বইয়ে লিখবে।”

তাই হলো:

  • রহিম রহিমা’কে ১০০ টাকা ধার দিল
  • রহিম চিৎকার করে বলল: “আমি রহিমা’কে ১০০ টাকা দিলাম!”
  • সবাই শুনে নিজের বইয়ে লিখল: রহিম -১০০, রহিমা +১০০
  • পরে ফেরত দিলে আবার সবাই জানিয়ে লিখল

আপনার বই পরিবর্তন করলে কী হবে? অন্য ৯৯% এর বই একই থাকবে।

বছর শেষে চেক করলে, যার বই আলাদা, সে প্রতারক।

এটাই ডিসেন্ট্রালাইজড ডিস্ট্রিবিউটেড লেজারের প্রথম রূপ!

ব্লকচেইন তো এই গ্রামকে বিশ্বব্যাপী করে, চিৎকারের বদলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে, হাতের বইয়ের বদলে ডিজিটাল লেজার। আমাদের বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এমন সিস্টেম কতটা উপকারী হতে পারে, সেটা ভাবুন!

ব্লকচেইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টা কীওয়ার্ড, মনে রাখলেই এক বছর ধরে গল্প করতে পারবেন

‘ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার’ ধারণা দেখানো একটা চিত্র। বিশ্ব মানচিত্রের পটভূমিতে অনেক নীল আলোকিত ঘনক (নোড) সংযুক্ত নেটওয়ার্ক। একটা নোড কালো এবং লাল টেক্সট ‘Node 5: Offline’, কিন্তু অন্যগুলো জ্বলছে। নিচে ইংরেজি: ‘Entire Ledger Remains Intact & Operational’, যা দেখায় ডিসেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক কিছু নোড নষ্ট হলেও চলে।
  1. ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার

সব রেকর্ড একটা কম্পিউটারে নয়, বরং বিশ্বের হাজার হাজার কম্পিউটারে একই কপি।

আপনার কম্পিউটার খারাপ? কোনো সমস্যা নেই।

কোনো দেশের ইন্টারনেট বন্ধ? ঠিক আছে।

যতক্ষণ একটা কম্পিউটার চালু, লেজার অটুট।

  1. ডিসেন্ট্রালাইজড

    কোনো গ্রামপ্রধান নেই, ব্যাঙ্ক নেই, আলিপে মতো কোনো বড় নেই।

    কেউ এককভাবে বন্ধ করতে, পরিবর্তন করতে বা আপনার সম্পদ ফ্রিজ করতে পারে না।

    ক্ষমতা ছড়িয়ে গেছে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর হাতে।

  2. অপরিবর্তনীয় (সুপার সিকিউর অ্যান্টি-চিট)

    প্রত্যেক পাতা (ব্লক) ৯৯৯টা সিল মারা।

    আগের পাতা বদলাতে চাইলে সব পরের পাতার সিল আবার করতে হবে।

    এবং সিল করতে বিশ্বের সব কম্পিউটারের (ক্যালকুলেশন পাওয়ার) সম্মতি লাগে, যা প্রায় অসম্ভব।

    একবার লিখলে, পাথরে খোদাইয়ের মতো—বদলানোর উপায় নেই।

  3. কনসেনসাস মেকানিজম (সবাই একমত হলে তবেই গ্রহণযোগ্য)

    নতুন লেনদেন এলে যে চায় তা লিখতে পারে না।

    বেশিরভাগ কম্পিউটারকে বলতে হবে “এটা ঠিক, লেজারে যাক”।

    এটাই কনসেনসাস।

    বিটকয়েনে “যে গণিতের সমস্যা দ্রুত সমাধান করে সে লিখবে” (প্রুফ অফ ওয়ার্ক),

    ইথেরিয়াম পরে “যার কয়েন বেশি স্টেক, সে সহজে লিখবে” (প্রুফ অফ স্টেক) এ।

    সারকথা, বেশিরভাগের সমর্থন লাগে, খারাপ লোকেরা লিখতে পারবে না।

  4. ট্রাস্ট মেশিন (সবচেয়ে দুর্দান্ত সামারি)

    আগে বিশ্বাসের জন্য সম্পর্ক, আইন বা ব্যাঙ্ক লাগত।

    এখন গণিত আর কোডের উপর ভর করে বিশ্বাস।

    কোডে বাগ না থাকলে, অ্যালগরিদম শক্ত হলে, অপরিচিতকেও সম্পদ দিতে পারেন নির্ভয়ে।

    ব্লকচেইনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

ব্লকচেইন = একটা গ্লোবাল নেটওয়ার্কড, সবাই অংশগ্রহণ করে, কেউ পরিবর্তন করতে পারে না, স্বয়ংক্রিয় কনসেনসাসের সুপার পাবলিক লেজার, যা অপরিচিতদের মধ্যে প্রথমবার ‘বিনা শর্তে বিশ্বাস’ সম্ভব করে।

কেন পুরনো দুনিয়ায় এর দরকার? সেন্ট্রালাইজড কতটা সমস্যাজনক?

আপনার দৈনন্দিন টাকা ট্রান্সফার, কেনাকাটা, সঞ্চয়—সব সেন্ট্রালাইজড সিস্টেমে:

  • বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়েছে কখনো?
  • ব্যাঙ্ক কার্ড দিয়ে অন্য জেলায় বড় অ্যামাউন্ট ট্রান্সফার আটকে গেছে?
  • গেম খেলে টাকা খরচ করে অ্যাকাউন্ট ব্যান হলে কোথায় যাবেন?
  • বিদেশে টাকা পাঠাতে ফি এত বেশি, ৩-৫ দিন লাগে?

এগুলো সেন্ট্রালাইজড’র কষ্ট:

কেউ নিয়ন্ত্রণ করলে, সে আটকাতে, বদলাতে, চুরি করতে বা বন্ধ করতে পারে।

ব্লকচেইন ‘ট্রাস্ট মিডিয়েটর’কে সরিয়ে দিয়েছে।

এটা প্রযুক্তির মাধ্যমে বলে:

“আপনাকে আর কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি বা দেশে বিশ্বাস করতে হবে না,

শুধু গণিত, ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং বেশিরভাগ লোক পাগল হবে না—এগুলোতে ভর করুন।”

আপনার চারপাশে যেসব উদাহরণ ইতিমধ্যে ব্যবহার হচ্ছে

  • বিটকয়েন: সবচেয়ে প্রথম এবং বিখ্যাত ব্লকচেইন অ্যাপ। শুধু ‘কে কাকে কত বিটকয়েন দিল’ রেকর্ড করে গ্লোবাল লেজার।
  • এনএফটি: আপনার কেনা বাঁদরের ছবি আসলে ব্লকচেইনে একটা লাইন: “এই বাঁদর ওয়ালেট ঠিকানা xxxx এর”। সবাই মেনে নেয়।
  • ডিজিটাল কালেকশন/চেইন অন ডিগ্রি সার্টিফিকেট: স্নাতক ডিগ্রি, জমি দলিল, লাক্সারি আইটেমের সার্টিফিকেট চেইনে গেলে ফেক, হারানো বা বদলানোর ভয় নেই।
  • ক্রস-বর্ডার ট্রান্সফার: আগে ৩ দিন + উচ্চ ফি, এখন কিছু স্টেবলকয়েন মিনিটে পৌঁছে, ফি কয়েক পয়সা। আমাদের মতো রেমিট্যান্স-নির্ভর দেশে এটা বিপ্লব।

শেষে: আপনি কি এখন নিজের কথায় ব্লকচেইন বুঝাতে পারবেন?

চেষ্টা করুন, আয়নায় বা বন্ধুকে বলুন:

“ব্লকচেইন মানে, আগে যা গ্রামপ্রধান বা ব্যাঙ্ক লিখত, এখন সবাই (বিশ্বের কম্পিউটার) একসাথে লিখে।

প্রত্যেক লেনদেনে সবাই সম্মতি দেয়, এবং লিখে গেলে কেউ বদলাতে পারে না।

এতে অপরিচিতরাও নিরাপদে ব্যবসা, টাকা পাঠানো বা মালিকানা প্রমাণ করতে পারে।

মূলে, এটা মানুষের আবিষ্কৃত প্রথম ‘ট্রাস্ট মেশিন’, যা অপরিচিতদের বিশ্বাসযোগ্য করে।”

যদি এটা বলতে পারেন, অভিনন্দন! আপনি ৯৯% লোকের ‘রহস্যের ভয়’ থেকে মুক্ত।

আরও গভীরে যেতে চান? কনসেনসাস কীভাবে কাজ করে, মাইনিং কী, স্মার্ট কনট্রাক্ট কী—জিজ্ঞাসা করুন।

কিন্তু আজ এখানে থামি, এই কয়েকটা শব্দ মনে রাখুন, ক্রিপ্টো জগতে আপনি রাজা:

ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার + ডিসেন্ট্রালাইজড + অপরিবর্তনীয় + কনসেনসাস + ট্রাস্ট মেশিন

শুধু এগুলোই যথেষ্ট।

বুঝেছেন তো ভাই? যেখানে ভালো লাগল, কমেন্ট করুন, আরও গল্প করি!

গ্লোবাল টপ৩ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ রেকমেন্ড:

সবকিছুর জন্য বাইন্যান্স, প্রফেশনালের জন্য ওকেক্স, অল্টকয়েনের জন্য গেট! তাড়াতাড়ি খুলে লাইফটাইম ফি ডিসকাউন্ট নিন~